শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ইয়াহিয়ার সঙ্গে রানী ও নূরজাহানের সঙ্গ

 

ইয়াহিয়ার সঙ্গে রানী নূরজাহানের সঙ্গ

উপমহাদেশের আইকনিক সিঙ্গার মালিকা -- তারান্নুম নূরজাহানের চোখ ঝলকানো সৌন্দর্যে পাগল হয়েছিলেন পাক শাসক ইয়াহিয়া খান। এমনকি ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খানও নূরজাহানের জন্য পাগল ছিলেন।



জেনারেল ইস্কান্দার মির্জার বরাত দিয়ে জানা গিয়েছিল নূরজাহানের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন আইয়ূব খান। মালিকা -- তারান্নুমের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান উতলা হয়ে পড়েছিলেন। ইয়াহিয়া নূরজাহানকে ছাড়া কিছুই বুঝতেন না।

পাকিস্তানিচলচ্চিত্র অভিনেত্রী রানি ছিলেন ইয়াহিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইয়াহিয়া যখন মন্ত্রীসভার বৈঠক ডাকতেন, রানিকে সাথে রাখতেন। রাজনীতি নিয়ে ইয়াহিয়ার কানে বহু কুমন্ত্রণা দিতেন রানি। এমনকি বঙ্গবন্ধুকে যখন গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে রাখা হয়, ইয়াহিয়া মন্ত্রীসভার কেবিনেটে আর্জেন্ট মিটিং ডাকলেন। তার ইস্যু ছিল শেখ মুজিবকে নিয়ে কি করা যায়?

বিষয়ে মন্ত্রীরা বিভিন্ন মতামত দিয়েছিল। শুধু একজন ছাড়া কারো মন্তব্যই ইয়াহিয়ার ভালো লাগেনি। সবাই মতামত দিয়েছিল এই বলে, বঙ্গবন্ধুকে জেলে পুরে রাখা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবেনা। কেউ তাঁকে ছেড়ে দেয়ার পক্ষে মতামত দেন। কিন্তু রানি খুবই উগ্রমূর্তি ধারণ করে সবাইকে বিরোধিতা করে বলেন, "উসকো ফাঁসি মে লাটকা দো, ঝাঞ্জাট খতম (তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দাও, ঝামেলা শেষ)"!!

সেদিন প্রিয় বান্ধবীর বচন শুনে ইয়াহিয়া অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন। রানিকে বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করেছেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে আগে থেকেই রানির সাথে নূরজাহানের সখ্যতা ছিল। ইয়াহিয়া রানির কাছে আবদার করলেন নূরজাহানকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। 

একাত্তরের যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত হয়েছিল হামুদুর রহমান কমিশন। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট চেয়ারে বসেই সারাদিন মদে বুঁদ হয়ে থাকতেন। ইয়াহিয়ার সঙ্গে অজস্র নারীর সম্পর্ক ছিল। তাদের তালিকাও বানানো হয়েছিল। তালিকার শীর্ষে ছিলেন নূরজাহান।

নূরজাহানকে "নূরি" বলে ডাকতেন ইয়াহিয়া। আর তিনি ইয়াহিয়াকে 'সরকার' বলে সম্বোধন করতেন। অভিনেত্রী রানি তার বাসায় একদিন তার বাসায় ইয়াহিয়া নূরজাহানের একান্তে মোলাকাতের ব্যবস্থা করে দেন। নূরজাহানের জনপ্রিয়তা তখন আকাশচুম্বী। সেদিন রানির বাসায় নূরজাহানকে নিয়ে ঘন্টা সময় কাটিয়েছিলেন ইয়াহিয়া খান। তবে এক সময় তাদের মেলামেশা রানিকে জেলাস করতো। যখন দেখলেন নূরজাহানের জন্মদিনে ইয়াহিয়া তাকে দুম করে ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার দিলেন। যা দেখে রানির চক্ষু চড়কগাছ।

শুধু তাই নয় নূরজাহানের মেলোডি ভয়েস শুনে খুশি হয়ে তাকে ৫৫ হাজার রুপি উপহার দেন। সেই সময়ে একসাথে এত স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা চাট্টিখানি কথা নয়। নূরজাহান শখ করে প্রায়ই টায়রা পরতেন। খোঁপায় স্বর্ণের মালা গেঁথে রাখতেন। জানা যায়, সেগুলো ছিল ইয়াহিয়ার দেয়া উপহার। সেই থেকে রানির সাথে নূরজাহানের সম্পর্ক শীতল রূপ ধারণ করে। রানি নূরজাহান বিদ্বেষী হয়ে উঠলেন। ক্ষুব্ধ হয়ে পত্রিকায় ইন্টারভিউ দিলেন ইয়াহিয়া নূরজাহানের অবাধ মেলামেশা নিয়ে। ঘন্টা পর বন্ধ কামরা থেকে বের হয়ে নূরজাহান টালমাটাল ছিলেন। ইয়াহিয়া তাকে মদ খাইয়ে মাতাল করে দিয়েছিলেন। এভাবে অনেকদিন চলেছিল ইয়াহিয়া নূরজাহানের প্রেম কাহিনী। 

নূরজাহান তার দুই ছেলে চার মেয়েকে মেয়েদেরকে বোর্ডিং স্কুলে পড়াতেন। বাসায় সুরেলা মহল বিরাজ করতো বলে সন্তানদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত যাতে না ঘটে সেজন্য বোর্ডিং স্কুলের ব্যবস্থা ছিল। সন্তানদের বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে অঝোরে কাঁদতেন। বিশাল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন তিনি।

নূরজাহানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি বোর্ডিং স্কুলে মেয়েদের জন্য ট্রাক ভর্তি করে ফল মিষ্টি বিরিয়ানি পাঠাতেন। ট্রাক বোঝাই করে খাদ্য পাঠানোর কারণ হল পুরো বোর্ডিং স্কুলের ছাত্রছাত্রী শিক্ষক শিক্ষিকা পিয়ন কর্মচারী কেউই বাদ যাবেনা। প্রিন্সিপালকে চিঠি লিখে পাঠাতেন নিজের হাতে। মালিকা-- তারান্নুমের লেখা চিঠি পেয়ে প্রিন্সিপাল ধন্য হয়ে যেত। নূরজাহানের নির্দেশ ছিল, বোর্ডিং স্কুলের কেউ যেন খাওয়া দাওয়া থেকে বাদ না পড়ে। 

নূরজাহান তার জীবদ্দশায় দুই বিয়ে করেছিলেন। ১৯৪২ সালে তিনি চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ শওকত হুসেন রিজভীকে প্রথম বিয়ে করেছিলেন। রিজভীর সাথে তার তিনসন্তান জন্ম নেয়-আকবর হোসেন রিজভী, আসগর হুসেন রিজভী এবং কন্যা জিলে হুমা। রিজভীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি পাকিস্তানের জননন্দিত অভিনেতা পরিচালক এজাজ দুররানিকে বিয়ে করেন ১৯৫৯ সালে। তবে ১৯৭১ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।
ইজাজের সাথে তার তিন মেয়ে জন্ম নেয়- হিনা দুররানি, নাজিয়া ইজাজ খান এবং মিনা হাসান। ইজাজের চেয়ে ১০ বছরের বড় ছিলেন নূরজাহান। তবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদও হয়ে যায়। নূরজাহানের বড়মেয়ে জিলে হুমা গায়িকা ছিলেন। তিনি দেখতে হুবহু মায়ের মত ছিলেন। হুমা ডায়াবেটিস উচ্চরক্তচাপ এবং কিডনি ফেইলিউরে মারা গেছেন ২০১৪ সালে। এছাড়া তার পায়ে গ্যাংরিনও হয়েছিল। 
গহনা থেকে মেকআপ চুল সবকিছুর মধ্যে নূরজাহানের সৌন্দর্য নিখুঁতভাবে পয়েন্ট আউট হত। ফ্যাশন সেন্সের জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। ২৩ ডিসেম্বর ২০০০ সালে হৃদরোগে মারা যান মালিকা-- তারান্নুম।

জেনারেল ইয়াহিয়া খান গায়িকা নূরজাহান (১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়ে) একে অপরের সান্নিধ্য উপভোগ করতেন এবং ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে নূরজাহান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছিলেন, যদিও একে 'প্রেমের গল্প' হিসেবে অভিহিত করা কঠিন কারণ এটি ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের একটি উদাহরণ মাত্র। ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে নূরজাহানকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আকলিমা আক্তার নামের আরেকজন নারী, যিনি নিজেই ইয়াহিয়ার 'জেনারেল কুইন' খেতাবপ্রাপ্ত ছিলেন।  
সম্পর্কের সূত্রপাত
·         ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময়, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান জনপ্রিয় গায়িকা নূরজাহানের প্রতি আকৃষ্ট হন। 
·আকলিমা আক্তার নামের এক নারী (যিনি নিজেও ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন) জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সাথে নূরজাহানকে পরিচয় করিয়ে দেন। 
·         একটি অনুষ্ঠানে প্রধান শিল্পী হিসেবে নূরজাহানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যেখানে তিনি ইয়াহিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করেন। 
সম্পর্কের প্রকৃতি
·         নূরজাহানের গান এবং তার উপস্থিতি ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল, যার কারণে ইয়াহিয়ার জীবনে নূরজাহান 'জিন্দেগীকি রানী' (জীবনের রানী) হিসেবে পরিচিতি পান। 
·         এই সম্পর্ক ছিল মূলত ক্ষমতা এবং প্রভাবের উপর ভিত্তি করে, যেখানে ইয়াহিয়ার ব্যক্তিগত জীবন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মিশ্রণ দেখা যায়। 
জনপ্রিয়তা এবং জনমত
·         নূরজাহান অত্যন্ত জনপ্রিয় শিল্পী ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে যেকোনো সমালোচনাকে সাধারণ মানুষ সহজে মেনে নিতে পারত না। 
·         এই সম্পর্কের কারণে কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিয়ে সমালোচনামূলক খবর ছাপা হলেও, জনসমর্থন এবং ভালোবাসার কারণে সেগুলোকে দমন করা হয়েছিল এবং লাজোর যুবলীগ এর বিরুদ্ধে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। 
·         নূরজাহান পরবর্তীতে তার এক ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তিতে বলেছিলেন যে, ইয়াহিয়া খান তার সঙ্গ উপভোগ করতেন। 

এই সম্পর্কটি ছিল ক্ষমতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি অংশ, যা তৎকালীন পরিস্থিতিতে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। 

তবে ইয়াহিয়া খান সেই সময় কতগুলো দুষ্টলোক দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকার কারণে আর বিশেষ করে তার আশপাশে পাকিস্তানের সুন্দরী রানি নুরজাহানের মতো মেয়েদের দিয়ে আবিষ্ট হওয়ায় তিনি আমার কথা কানে নিলেন না। বরং আমাকে প্রত্যাখ্যান করলেন। ইয়াহিয়া খানের অন্ধকার দিনগুলোর আরেক গুরুত্বপূর্ণ সাথি ছিলেন। নুরজাহান। ইয়াহিয়া খানের শেষ দিনগুলোতে নুরজাহানের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল। চিফ অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স জেনারেল উমারের এক অনুষ্ঠানে নুরজাহান প্রধান গায়িকা ছিল। সেখানে মধ্যবয়স্কা আকর্ষণীয় নুরজাহানের সাথে ইয়াহিয়া খানের পরিচয় হয়।

রানির মতে ইয়াহিয়া খান মেয়েলি বিষয়ে যথেষ্ট durbol ছিলেন। ত্রিশ বছর বয়সের কোনো নারীর প্রতিই তার কৌতূহল ছিল না। এমনকি সেই বয়সের কোনো মেয়েকে ভোগ করতে তার আগ্রহ ছিল একদম কম। তবে নটি টাইপের নষ্টাভ্রষ্টা মধ্যবয়স্কা মেয়েগুলো যারা সত্যিকার অর্থেই জানে যৌনতা কী তাদের প্রতি ইয়াহিয়া খানের আগ্রহের কমতি ছিল না। এজন্যই তার সমস্ত বান্ধবীরা ছিল মধ্য বয়স্কা। এই শ্রেণিতে নুরজাহান ছিল একদম উপযোগী একজন নারী। নুরজাহানের গানের একটা রেকর্ড শুনে মামু (ইয়াহিয়া খান) মেয়েটাকে দেখতে চাইলেন।

আমি তাকে বলেছিলাম সে কোনো কম বয়স্ক তরুণী নয় বরং সে হলো মধ্যবয়স্কা একজন নারী যার কয়েক ডজন ডিভোর্স স্বামী আছে। তিনি আমার কথায় কান দিলেন না। বরং নুরজাহানের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য জেদ করতে শুরু করলেন।

তাই আমি জেনারেল উমরের বাসায় একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলাম। সেখানে নুরজাহানকে প্রধান শিল্পী হিসেবে নিমন্ত্রণ করলাম। এজন্য তাকে নগদ পাঁচ হাজার রুপি। দিলাম। সমান টাকার অলংকারও দিলাম। সে আসল আর মুহুর্তেই প্রধান ক্ষমতাবান ব্যক্তিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলল।

ইয়াহিয়া খান এই মহিলার প্রেমে পড়ে গেলেন। যার শরীরে তখন গলার স্বরটুকু আর কিছুই ছিল না। সেদিনই ইয়াহিয়া খান পাঁচ ঘণ্টা নুরজাহানের সাথে কাটালেন। তারা দুজন। জেনারেল উমরের ছোট একটা কুঠুরিতে রাত কাটালেন। শেষ রাতের দিকে সে যখন বের হয়ে আসে তখন টালমাটাল অবস্থা তার। কারো সাথেই নুরজাহান কোনো কথা বলল না।

এর পর থেকে সে আমার প্রধান শত্রুতে পাল্টে গেল। সে আমার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের অলংকার ধার। নিয়েছিল সেগুলো সে কখনো ফেরত দেয়নি।' আমরা অবশ্য পরে নুরজাহানের সাথে কথা বলেছিলাম। নুরজাহানের গল্পগুলো যখন লিখছি তখন তার বিষয়ে অনেক খোঁজখবর করলাম। নূরজাহানের সাথে কথা বললাম। তার বিষয়ে রানি যে সব অভিযোগ করেছিল সেগুলো তাকে জিজ্ঞেস করলাম। নুরজাহান সব অস্বীকার করল। বলল তার। পেশাগত সফলতা আর সুখ্যাতির কারণে সবাই তাকে ঈর্ষা করত। নুরজাহান আরো বলল রানি ছিল পেশাদার ব্ল্যাক মেইলার। সে সকলের বিরুদ্ধে লেগে থাকত আর ব্ল্যাক মেইল করে বেড়াত। | তবে ১৯৭৩ এর প্রথম দিকে রানি আর নুরজাহানের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটে।  

তবে ১৯৭৩ এর আগস্টের দিকে রানি আবার সংবাদ শিরোনাম হয়। সে। সাংবাদিকদের ডেকে এক সম্মেলনে বলে যে নুরজাহান তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তার সাথে যে সব চুক্তি হয়েছিল তার সব কয়টিই। নুরজাহান ভঙ্গ করেছে। রানি দাবি করে যে সে নিজে অত্যন্ত বড় হৃদয়ের মানুষ। সে চেয়েছিল নুরজাহানকে সাহায্য করতে। নুরজাহানের হারানো ইমেজ ফিরিয়ে আনতে। যাতে করে নুরজাহান আবার তার ছবি বানানোর কাজে নেমে যেতে পারে।

নতুন নতুন ছবির এসাইনমেন্ট যেন সে পায়। কিন্তু নুরজাহান তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে বরং তার কাছ থেকে ৫০ হাজার রুপি মূল্যমানের যে অলংকার নিয়ে গিয়েছিল সেগুলো ফেরত দেয়নি। অপরদিকে নুরজাহান দাবি করে যে নারী নির্জলা মিথ্যে বলছে। শুধু তাই নয় সে প্রায়ই নুরজাহানকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। | এদিকে রানি করাচির জং পত্রিকায় দাবি করে যে ইয়াহিয়া খান তাকে নিয়ে যে সমস্ত রসালো গল্প প্রচলিত আছে তার সবগুলোই মিথ্যে।

এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। সে ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে কখনো কোনো সুবিধা ভোগ করেনি। করাচির ডেইলি নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে রানি বলে যে সংবাদ পত্রগুলো তাকে প্রতিনিয়ত ব্ৰিত করে যাচ্ছে। তাকে নিয়ে ভিত্তিহীন সব সংবাদ প্রচার করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইয়াহিয়া খানের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টা নিয়ে সংবাদপত্র বাড়াবাড়ি করেছে। এছাড়া যে সমস্ত পত্রিকাগুলো বলছে যে সে ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ সম্পদ ভোগ করেছে তার পুরোটাই মিথ্যে। রানি দাবি করেছে যে সে ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে কোনো বাড়ি ঘর কিংবা একটা রুপিও নেয়নি।

পাকিস্তানী গায়িকা অভিনেত্রী নুরজাহানের অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে চান ওয়ে (১৯৫১), দোপাট্টা (১৯৫২), পাতে খান (১৯৫৫), ছু মন্তর (১৯৫৮), কোয়েল (১৯৫৯), এবং ইন্তেজার (১৯৫৬) তিনি প্রায় ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন এবং শেষ ছবিটি ছিল মির্জা গালিব (১৯৬১) 

অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা:

·         চান ওয়ে (১৯৫১): 

এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানে প্রধান অভিনেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় শুরু করেন। 

·         দোপাট্টা (১৯৫২): 

এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। 

·         ইন্তেজার (১৯৫৬): 

এটিও তার অভিনীত একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। 

·         ছু মন্তর (১৯৫৮): 

এই সিনেমাতেও তিনি প্রধান অভিনেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। 

·         কোয়েল (১৯৫৯): 

এই ছবিতেও তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। 

নুরজাহান তার ক্যারিয়ারে প্রায় দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন এবং ১০,০০০ এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। মূলত একজন গায়িকা হিসেবে পরিচিত হলেও, তিনি একজন সফল অভিনেত্রীও ছিলেন। 

 

'হবু চন্দ্র রাজা গবু চন্দ্র মন্ত্রী' "কবিতার লেখক: এই জনপ্রিয় কবিতাটির লেখক হলেন অবিস্মরণীয় শিল্পী সুকুমার রায়।

  আপনার পরিকল্পনাটি অসাধারণ এবং অত্যন্ত সময়োপযোগী ! ' হবু চন্দ্র রাজা গবু চন্দ্র মন্ত্রী ' সিনেমাটি ২০২১ সালে পশ্চি...